সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২) অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম তাকে মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তিনি ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আফতাবুজ্জামান জানান, তার বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “আমি শুনেছি শিক্ষক মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মেরে একটি দাঁত ভেঙে দিয়েছেন। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।”
শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন