নআন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরে কামেল, হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী সাহেব কিবলা (রহ.)-এর ষষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সওয়াব মাহফিল যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ব্রিক লেন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আল্লামা দুবাগী (রহ.) ঈসালে সওয়াব মাহফিল কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরসহ দেশ-বিদেশ থেকে আগত পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা, মুরিদ, মুহিব্বীন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ রেকর্ড পরিমাণ গরম উপেক্ষা করে মাহফিলে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আল্লামা দুবাগী (রহ.)-এর স্মরণে নাশিদ পরিবেশন করেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
মাহফিলে বক্তব্য দেন মিনহাজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল লন্ডনের পরিচালক আল্লামা সাদিক কোরেশী আল-আযহারী, মুহিউল ইসলাম মসজিদের খতিব আল্লামা শের আহমদ বারকাতী, সাবেক মন্ত্রী আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী, দারুল হাদীস লতিফিয়া লন্ডনের সাবেক প্রিন্সিপাল মুফতি ইলিয়াস হোসাইন, সাবেক প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান ছাতকী, শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল জলিল, মাওলানা অলিউর রহমান চৌধুরী (মেজো সাহেবজাদা), মাওলানা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (ছোট সাহেবজাদা), আল্লামা সানাউল্লাহ চেটি, আল্লামা কারী তারিক মাহমুদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা এমদাদুর রহমান আল-মাদানী, মাওলানা আব্দুল মালিক, মাওলানা শফিকুর রহমান বিপ্লবী, অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ, হাফেজ মাওলানা আব্দুল জলিল, মাওলানা আমিনুল ইসলাম জলঢুপি, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা মারুফ আহমদ, অ্যাডভোকেট মাওলানা সালেহ আহমদ মানসুরী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মুফতি এহসান আহমদ, মাওলানা হুসাম উদ্দিন আল-হুমাইদি, মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা আজিজুর রহমান ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসসহ আরও অনেকে।
এছাড়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মুহিউস সুন্নাহ চৌধুরী আল-আযহারী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা ওয়াহিদ উদ্দিন সিরাজী, মাওলানা মুস্তফা কামাল, হাফেজ মতিউল হক, হাফেজ সাজ্জাদুর রহমান, হাফেজ নাজিম উদ্দিন, হাফেজ শানুর আহমদ, কারী গোলাম আজম, কারী হারুন আহমদ, কারী সুফিয়ান বিল্লাহ, আলহাজ হামিদুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ সালিম রহমান, অধ্যাপক মিসবাহ উদ্দিন কামালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী (রহ.) ছিলেন প্রবাসে ইসলামী জাগরণের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ আলেম, বিজ্ঞ মুফতি, দক্ষ সংগঠক, সফল শিক্ষক, ইসলামী লেখক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাজ্যে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
তাঁরা বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি যুক্তরাজ্য আনজুমানে আল-ইসলাহ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া দারুল হাদীস লতিফিয়া, লন্ডনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাজ্য উলামা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আলেম সমাজকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্ব ছিল দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, বিনয় ও ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয় তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। আল্লামা দুবাগী (রহ.) হাজারো আলেম গড়ে তুলেছেন, যারা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর পাঠদানের ধরন ছিল গবেষণাভিত্তিক, প্রমাণনির্ভর ও সহজবোধ্য। শুধু পাঠ্যবই নয়, বরং বিষয়বস্তুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, দলিল ও বাস্তব প্রয়োগও তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন।
তাঁর খুতবা, ওয়াজ ও বক্তৃতা ছিল কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক, হৃদয়গ্রাহী ও বাস্তবমুখী। তিনি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ইসলামের বাস্তব প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। একই সঙ্গে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ গভীর গবেষণা, নির্ভরযোগ্য দলিল, সহজ ভাষা এবং সমসাময়িক সমস্যার বিশ্লেষণের জন্য সমাদৃত।
মুফতি হিসেবে তিনি কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে সমসাময়িক নানা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান প্রদান করতেন। বিশেষ করে প্রবাসী মুসলিম সমাজের নতুন নতুন বিষয়ে তাঁর ফতোয়া ছিল শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য।
বক্তারা বলেন, তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল বিনয়, তাকওয়া, ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সর্বদা আল্লাহভীতি, আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতেন। ২০২০ সালের ১০ জুলাই যুক্তরাজ্যে তাঁর ইন্তেকালে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞান, ছাত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থ এবং আদর্শ আজও মানুষের হৃদয়ে তাঁকে জীবন্ত করে রেখেছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আল্লামা দুবাগী (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী। দোয়ায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন