মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬” এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টায় শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ডের ক/১ সাব-ব্লকে স্থাপিত অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলামের উপস্থিতিতে তিনজন শিশুকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সহকারী সঞ্চিতা চক্রবর্তী তিন বছর বয়সী শিশু রিধিপাল, সৌম্যপাল ও স্নেহাচন্দ্রকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গণি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ শামিম আল-রশীদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ করে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই টিকাদান কার্যক্রম টানা তিন সপ্তাহব্যাপী চলবে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করে শিশুদের এই সেবা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো টিকা প্রদান করলে এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকাদান কেন্দ্রে এনে টিকা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন জানান, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত জনবল, ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এ ধরনের টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শ্রীপুর উপজেলায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন