এক সময় উপকূলীয় জনপদের গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ছিল কাচের গুলি বা মারবেল খেলা। স্কুল ছুটির পর কিংবা বিকেলের অবসরে গ্রামের মাঠ, রাস্তার ধারে, উঠান বা খোলা জায়গায় দল বেঁধে চলত গুলি খেলার প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব, স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে শারীরিক খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় একসময় শিশুদের হাতে রঙিন কাচের গুলি দেখা যেত। ছোট একটি গর্ত বা নির্দিষ্ট বৃত্ত তৈরি করে লক্ষ্যভেদে গুলি মারার মাধ্যমে খেলাটি অনুষ্ঠিত হতো। এতে যেমন আনন্দ ছিল, তেমনি ছিল মনোযোগ, কৌশল, ধৈর্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার সুযোগ।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি পাড়ায় নিয়মিত কাচের গুলি খেলা হতো। বিকেল হলেই শিশু-কিশোরদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠত গ্রামের খোলা মাঠ ও উঠান। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য প্রায় বিলীন। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুই এই খেলার নাম পর্যন্ত জানে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এগুলো শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কাচের গুলি খেলাসহ অন্যান্য গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাদের মতে, স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন এবং শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে কিছুটা বাইরে এনে দেশীয় খেলায় উৎসাহিত করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন