মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণীত সহায়তা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তি, প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং সচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত কৃষকরা।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই তালিকা প্রস্তুত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে কৃষক না হয়েও কিংবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও কয়েকজন ব্যক্তি সহায়তা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রবাসী পরিবারের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবীর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত কৃষকরা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বরমচাল ইউনিয়নেও।
ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছয়ফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অনেক প্রবাসী ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফতাব মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান, ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে ৫১৮ জনের তালিকা করা হয়েছিল। বরাদ্দ কম আসায় ১৯০ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়োর কারণে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কুলাউড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১ হাজার ৫৩৭টি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের জন্য ৪৬ দশমিক ১ মেট্রিক টন চাল এবং ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বরাদ্দ সীমিত থাকায় কিছু প্রকৃত কৃষক তালিকার বাইরে রয়েছেন। তবে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্তে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মন্তব্য করুন