নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের সামনে কর্জশোধ, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরছি। “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।”
পবিত্র কোরআন মাজিদের সুরা আলে ইমরানের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াত ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর সাতবার পাঠ করলে, ইনশাআল্লাহ ঋণ পরিশোধে সহায়তা লাভ এবং শত্রুর ওপর বিজয় অর্জনের আশা করা যায়।
এছাড়া প্রতিদিন এশার নামাজের পর শোয়ার সময় এই আয়াতগুলো বারবার পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা উপার্জনে বরকত দান করেন, সৌভাগ্য বৃদ্ধি করেন এবং দারিদ্র্য দূর করে দেন।
সহিহ কিতাবে বর্ণিত আছে, এই আয়াতসমূহ নাজিল হওয়ার পেছনে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে। সে সময় ইহুদি ও নাসারারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুয়ত নিয়ে বিদ্রূপ করে বলত, তিনি যদি সত্যিই আল্লাহর নবী হতেন, তবে হযরত দাউদ (আ.) ও হযরত সুলাইমান (আ.)-এর মতো ধন-সম্পদের অধিকারী হতেন। তাদের এ ধরনের কথার প্রেক্ষিতেই এই আয়াতসমূহ নাজিল হয়।
পরবর্তীতে মুসলমানদের বৈষয়িক উন্নতি, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের বিজয়সহ ইসলামের ব্যাপক প্রসারের সূচনা ঘটে। এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো—ধন-সম্পদ, সম্মান ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাতেই অর্জিত হয়। মানুষের জ্ঞান ও দৃষ্টির সীমাবদ্ধতার কারণে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কুদরত পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
এই আয়াত পাঠের মাধ্যমে বান্দা নিজেকে আল্লাহর অসীম কুদরতের কাছে সমর্পণ করে। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর নিজের রহমত বর্ষণ করেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার হযরত মুয়াজ (রা.) ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কোনোভাবেই ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। পরে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরণাপন্ন হলে তিনি তাকে এই আয়াতগুলো পাঠ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঋণমুক্ত হন।
“কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতিল মুলকা মান তাশাউ, ওয়া তানজিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ, ওয়া তুইজ্জু মান তাশাউ, ওয়া তুজিল্লু মান তাশাউ, বিয়াদিকাল খাইর। ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। তুলিজুল লাইলা ফিন নাহারি, ওয়া তুলিজুন নাহারা ফিল লাইলি, ওয়া তুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি, ওয়া তুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি, ওয়া তারজুকু মান তাশাউ বিগাইরি হিসাব।”
(হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) বলুন, হে আল্লাহ! আপনি সমগ্র রাজ্যের মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাঁর কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। সকল কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
আপনি রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করান। আপনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রিজিক দান করেন।
পরিশেষে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।
লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট।
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট।
সাবেক প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট।
সাবেক প্রধান শিক্ষক, হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
মন্তব্য করুন