বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্যামনগর পূর্ব আদর্শ থানা শাখার অধীন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ওবায়দুল্লাহ আল মামুনকে সাংগঠনিকভাবে কর্মী পদ থেকে বাতিল ও সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটির স্থানীয় নেতৃত্ব। তবে এ সিদ্ধান্তের পর ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত কারণে নিজেই সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সংগঠনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ওবায়দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয় এবং বিষয়টি তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাস তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে ছাত্রশিবির। পরে থানা ও ইউনিয়ন শাখার দায়িত্বশীলদের পরামর্শক্রমে গত ২৫ জুন তাকে কর্মী পদ থেকে বাতিল এবং সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংগঠনের দাবি, সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজ ইচ্ছায় সংগঠন থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন, যা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, “সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওবায়দুল্লাহ আল মামুনকে কর্মী পদ থেকে বাতিল এবং সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে থেকে অব্যাহতি নেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিষয়টি সঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, একজন মুমিনের ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি জনসম্মুখে প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। শুধুমাত্র সাংগঠনিকভাবে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করায় সংগঠন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছে।
জাকির হোসেনের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের কারণে সংগঠনের নিয়ম ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী ওবায়দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে কর্মী পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ওবায়দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন