সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের অংশগ্রহণমূলক শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসার্স ক্লাবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমান বিহারী মণ্ডল, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মণ্ডল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমূল কবীর, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমাম হাসান, সাংবাদিক এম. এ. রশিদ, সাত-আইসিডিপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সমুয়েল স্যাগমা, মনিটরিং অ্যান্ড লার্নিং (এমঅ্যান্ডএল) অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাসসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগীরা।
সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প জীবিকায়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইমাম হাসান বলেন, ফেইথ ইন এ্যাকশনের কার্যক্রম বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমূলক। বিশেষ করে সেফগার্ডিং কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে আয় বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমূল কবীর বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মানুষ তাদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, গাবুরার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারলেই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, মানুষের চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাবুরার টেকসই উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন