
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গত ৫ আগস্ট যাদের দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছিল, এখন দেশের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীরা গোপনে তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ ও খাতির তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, অতীতের মতো আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বাংলার মানুষ বিতাড়িত করেছে। এখন দেশের মানুষ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। কিন্তু একটি পক্ষের তা সহ্য হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, খবর নিয়ে দেখেন, যারা এখন দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে, তারা তলে তলে ওই বিতাড়িত হওয়াদের সঙ্গে খাতির করছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের মতো আবারও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এখন তাদের সঙ্গে নতুন একটি ‘ছোট লেজ’ও গজিয়েছে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠন করায় বিরোধী পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সেই ক্ষোভ থেকেই বিভিন্ন স্থানে আগুন, অবরোধ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা দেশের আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। অথচ অতীতে মানুষের দুর্দিনে তারা পাশে ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মী, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা।
দেশে অরাজকতা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড এবং শিশুদের নতুন বই-পোশাক বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৩ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে শিশুদের নতুন স্কুল ব্যাগ, পোশাক ও বই বিতরণের কথাও জানান তিনি।
কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠে এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
সভায় সম্প্রতি রাজধানীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব অন্যায়কারীর বিচার হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনের দৃষ্টিতে কেউ অপরাধী হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রিশালের কানহর গ্রামের ধরার খাল এলাকায় উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর পুনঃখনন হওয়া ‘ধরার খাল’-এর উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের মতে, খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন