গাজীপুরের টঙ্গীর মাজারবস্তি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাটির নিচে তৈরি গোপন কক্ষ ও সুড়ঙ্গপথের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে, যা দেখে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর মাজারবস্তি এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে তৈরি একাধিক কক্ষ ও সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে এসব গোপন কক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য এবং মাদক সেবনের আলামত জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সুড়ঙ্গ ও কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুর রহমান বলেন, “মাজারবস্তি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় মাটির নিচে গোপন কক্ষ ও সুড়ঙ্গপথ পাওয়া যায়, যেগুলো মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং এসব কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও এ ধরনের বড় অভিযান আগে হয়নি। মাটির নিচে গোপন কক্ষ ও সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পাওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন