গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দ্রা মাটিকাটা রেললাইন বটতলা এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে নতুন করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দখল বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। তবে সেই উচ্ছেদের পর আবারও একটি প্রভাবশালী চক্র একই জমি দখল করে নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করে।
শনিবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের এক পাশজুড়ে প্রায় ২০০টি টিনশেড ঘর নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরহাদ ফকির ৮টি, আক্কাস ১২টি, খলিল ভান্ডারী ৯টি, সাইফুল ৯টি, চিত্তরঞ্জন ৪টি এবং আবু বক্কর ২টিসহ একাধিক ব্যক্তির নামে ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ‘রেফাজ ডাক্তার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে অন্তত ২০টি ঘরের নির্মাণকাজ এখনও চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মোট ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘর নির্মাণ ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
সরেজমিনে কথা বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে “ম্যানেজ” করেই এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রকাশ্যেই সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
অভিযোগের বিষয়ে খলিল ভান্ডারী বলেন, “আমি জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে জায়গাটি কিনে নিয়েছি।”
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং কিছু ঘরে লোকজন বসবাসও শুরু করেছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে রেলওয়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে রেললাইনের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন