রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, অবৈধ বালু উত্তোলন, রাস্তার পাশের গাছ কেটে বিক্রি এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার মাধাইখামার গ্রামের এক বিধবা নারীর ঘরে প্রবেশ করেন সাজ্জাদুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোকসেদুল হকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে এলাকাবাসীর দাবি।
তবে ঘটনার পাঁচ দিন পর সাজ্জাদুল ইসলাম চারজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় যুবক রুবেল বলেন, “রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করার পর এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এখন প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা রিমন ইসলাম অভিযোগ করেন, “ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই সাজ্জাদুল সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেন তিনি ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেটিই প্রশ্ন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এখন এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।”
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাজ্জাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই নারীর সঙ্গে আমার দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছে, তার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। ঘটনার দিন আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে গেলে আমাকে মারধর করা হয় এবং আমার পা ভেঙে দেওয়া হয়। এজন্য আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।”
এ বিষয়ে লোহানীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী বলেন, “সাজ্জাদুলকে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাগুলোতে দল বিব্রত। এর আগেও তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন