মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় লিটন মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বড়লেখা পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করেছে এবং চালকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত লিটন মিয়া উপজেলার তেলিগুল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফুলু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে লিটন মিয়া একটি পালসার মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণ বাজার এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাফরন রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকাগামী সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লিটন মিয়া মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার এসআই দেবল কুমার দাস জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। পরদিন সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, “দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চালকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পৌর শহরের ব্যস্ত সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে লিটন মিয়ার মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনরা দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন