মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সংঘটিত আলোচিত নারী গণধর্ষণ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি তাওহীদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভানুগাছ রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তাওহীদ মিয়া (৪৫) শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্য মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল লতিফ মৃধার ছেলে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বৌলাশির কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১১ মে সকালে তিনি তার খালাতো বোনকে নিয়ে খালাতো বোনের এক বন্ধু আব্দুল কাদিরের সঙ্গে দেখা করতে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা এলাকায় যান। সেখানে একটি হোটেলে নাস্তা করার পর তাদের ভানুগাছ রোড বধ্যভূমি এলাকায় অপেক্ষা করতে বলা হয়।
পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে সুহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তাদের মণিপুরিপাড়ার একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আরমান মিয়া ও তাওহীদ মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর খালাতো বোনকে তার বন্ধুর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগী, তার খালাতো বোন ও ওই বন্ধু ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।
এ সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরমান মিয়া ও তাওহীদ মিয়া মোটরসাইকেলে করে তাকে একটি চা বাগানের ভেতরের নির্জন কলোনির ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে শহরের একটি সেতুর ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি তাওহীদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতনসহ যেকোনো অপরাধ দমনে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন