সিলেটের বিশ্বনাথে সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কের ওপর গেইট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালে নির্মিত ওই গেইটে ১৩ বছর আগে ‘নিখোঁজ’ হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর নামে নামফলক স্থাপনের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে গত বুধবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহরমপুর গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সাজ্জাদ আলী।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ-বিন-কাশেমের কাছে দেওয়া অভিযোগে সাজ্জাদ আলী উল্লেখ করেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথ কলেজ রোড, বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-বাইপাস রোডসংলগ্ন তিন রাস্তার মুখ মহরমপুর বৈদ্যকাপন থেকে ভোগশাইল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ওই সরকারি সড়কের ওপর বৈদ্যকাপন গ্রামের মৃত আরশ আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ ও আব্দুল করিম, একই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল আহাদ এবং হারুন খানের ছেলে আজমান খানসহ আরও কয়েকজন রাতের আঁধারে গেইট নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নির্মাণাধীন গেইটের চার ফুট পিলার ভেঙে ফেলা হয় এবং সরকারি সড়কে গেইট নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার দুটি পাকা পিলার নির্মাণ করেন। সেখানে ‘স্বাগতম বৈদ্যকাপন’ লেখা এবং ‘ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক সংসদ সদস্য-সিলেট-২, স্থাপিত ২০০৫ইং’ লেখা একটি নামফলক স্থাপন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালে ভুল তথ্য দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর নাম ব্যবহার করে নামফলক স্থাপন করায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা নামফলক পরিবর্তন করে ‘সাবেক’ শব্দ বাদ দিয়ে পুনরায় আরেকটি নামফলক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজ্জাদ আলী আরও অভিযোগ করেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তার নিজস্ব ভূমির ওপর একটি পিলার এবং কারিকোনা গ্রামের মতছির আলীর ভূমির ওপর অপর একটি পিলার নির্মাণ করে গেইট তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নিয়ে ওসমানীনগর সার্কেল অফিসে বৈঠক করেন। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। একই সঙ্গে পূর্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী গেইট নির্মাণে নিষেধ করেছিলেন—এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কোনো নোটিশ না থাকায় সেটি পুলিশের কাছে দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় সরকারি সড়কে গেইট নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং সরকারি আদেশ অমান্য করে গেইট নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
মন্তব্য করুন