প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেট অধিবেশনের আগে কিংবা ঈদুল আজহার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সম্ভাব্য নতুন মুখদের তালিকায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে পাঁচ থেকে ছয়জনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারজনকে পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও দুইজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন দুইজন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন মুখদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুননবী সোহেল, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অভিজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিত্বসম্পন্ন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক দক্ষতা এবং গণমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের খবরে পটুয়াখালী-৪ আসনের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে এ আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পানি সম্পদ ও ত্রাণ-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। ফলে এবিএম মোশাররফ হোসেন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে উপকূলীয় জনপদের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, শুধু নতুন মন্ত্রী অন্তর্ভুক্তিই নয়, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসও হতে পারে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, কাজের ধীরগতি এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলো সরকারের নজরে এসেছে। ফলে কিছু মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানো কিংবা দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ড. আব্দুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এ মুহূর্তে আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।”
বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে—আসন্ন সম্প্রসারণে কারা জায়গা পাচ্ছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে এবিএম মোশাররফ হোসেন শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন কি না।
মন্তব্য করুন