পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যে প্রশাসনিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত শালবাহান ইউনিয়নে মোট ছয়টি মৌজা রয়েছে। ইউনিয়নটি তেঁতুলিয়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। তবে গত চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, উদ্যোক্তা কিংবা ইউপি সদস্য—কাউকেই সেখানে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। ফলে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে।
সেবাপ্রার্থী কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ, গরু বিক্রির অনুমোদন, হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত কাজ এবং গ্রাম আদালতের মামলার শুনানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ছেন, তেমনি অনেকেই আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন।
স্থানীয় চা শ্রমিক জুলফিকার আলী, সোবাহান আলী, আব্দুস সামাদ ও মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো সেবা ঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে শালবাহান হাট উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু এবং ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ফলে জানুয়ারি মাস থেকে চেয়ারম্যান কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেবাও বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তাকে যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।”
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন