ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাংবাদিক মঈনুল হক লিপুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজাপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন।
বক্তারা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলা শুধু ব্যক্তিগত আঘাত নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার চার দিন পার হলেও এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার, ঝালকাঠি টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আল আমিন তালুকদার, সদস্য সচিব অলোক সাহা, রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান, রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক অহিদ সাইফুল এবং রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এটিএন নিউজের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সদস্য মঈনুল হক লিপুর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের পক্ষ থেকে রাজাপুর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। খুব শিগগিরই দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বিচার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন