মাগুরায় শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শনিবার (২৩ মে) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জেলা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীবৃন্দ ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা জামায়াতের সভাপতি সালমা পারভীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সেক্রেটারি ফরিদা পারভীন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অঞ্চল টিম সদস্য ইয়াসমিন, অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক মাছুরা পারভীনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা বলেন, এসব ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই”, “শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো”, “অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” ইত্যাদি। এ সময় তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু আইন থাকলেই হবে না, তার সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় না পায়। একই সঙ্গে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
তারা আরও বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলে সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।
মানববন্ধনে বিশেষভাবে মাগুরার শিশু আছিয়া খাতুন হত্যাকাণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। বক্তাদের মতে, বিচার দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় এবং অপরাধীরা উৎসাহিত হয়।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা জানান, তারা ভবিষ্যতেও নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত সবাই ন্যায়বিচার, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি করে।
মন্তব্য করুন