রাজশাহীর চারঘাটে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রী মোসা. উমাইয়া বুশরাকে (১৪) ১১ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ছাত্রীর বাবা-মা।
উমাইয়া বুশরা উপজেলার হাবিবপুর এলাকার মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে এবং নন্দনগাছী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি বুশরা। পরে চারঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৯১) করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
রোববার (১০ মে) সকালে বুশরার বাবা মো. মিজানুর রহমান ও মা মোসা. সেলেনা বেগম যৌথ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের এক সদস্য মামলা গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেন। কিন্তু পরে কোনো সহায়তা না করে উল্টো অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের দাবি, স্থানীয় সূত্রে তারা জানতে পারেন বুশরাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা গেছে। একপর্যায়ে তারা মেয়েকে সামনাসামনি দেখতে পেলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর উপস্থিতিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। পরে আবারও তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
বুশরার মা সেলেনা বেগম বলেন, “প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য আতঙ্কের। মেয়েটা কোথায় আছে, কেমন আছে—কোনো কিছুই জানি না।”
নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার দ্রুত তাকে উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অর্থ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদনপত্রের অনুলিপি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) এবং চারঘাট মডেল থানার ওসির কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া মেয়েকে জীবিত ফেরত পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
মন্তব্য করুন