গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ সাড়ম্বরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে পুরো একাডেমি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মোঃ তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ সালাউদ্দিন এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোঃ তারেক রহমান বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য এ ধরনের জাতীয় সমাবেশ অত্যন্ত গৌরবজনক আয়োজন। তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন এবং বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে এ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং ৬৭০ জন শহীদ হন, যা জাতির ইতিহাসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপির চারটি প্রধান স্তম্ভ—ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা/উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি—দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কাঠামোই বাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত জননিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি দপ্তর, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
নারী ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নগর এলাকায় টিডিপি সদস্যরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হচ্ছে, যা দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি এখন একটি নির্ভরযোগ্য “ফার্স্ট রেসপন্ডার” বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নেও তারা অবদান রাখছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকে ইতোমধ্যে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করা হয়েছে, যা ক্রীড়াক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠান শেষে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন