সাভারের হেমায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি দোকানঘর ঘিরে বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে থাকা ২৪টি দোকানের মধ্যে ১৯ নম্বর দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছেন জয়নাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব শেখ (৫৫)। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সব ভাড়াটিয়াকে নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্য ২৩ জন ভাড়াটিয়া নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও বিপ্লব শেখ তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার এ অবস্থানের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থমকে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশে।
এদিকে অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের সম্পদ দখলকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি দোকান থেকে চাঁদা আদায় সংক্রান্ত বিরোধে কিছু ব্যক্তি স্থানীয় যুবদল নেতা রকিব ও সাংবাদিক শরীফের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং প্রতিবাদ দমন করতেই সংশ্লিষ্টতাহীন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘হাজী বিরিয়ানি’র নাম ব্যবহার করে ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে। এছাড়া নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কারণে অতীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী জানান, বিষয়টি সমাধানে ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত বিপ্লব শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল বা উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন