তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
৫ মে ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাওরে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান

মৌলভীবাজার জেলায় টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরসহ ছোট-বড় হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের চোখে-মুখে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৪ মে) জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওর, সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের বৌলার হাওর, বিন্নার হাওর, মোস্তাপুর ইউনিয়নের খাইঞ্জার হাওর এবং কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। কৃষকরা জানান, একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত বাড়ায় ধান কেটে ঘরে তোলার সুযোগও তারা পাচ্ছেন না।

কাউয়াদীঘি হাওরের কৃষকরা জানান, তারা ধার-দেনা করে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করেছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক কিয়ার ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেও রাতের বৃষ্টিতে অধিকাংশ ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।

একই হাওরের বিরইনবাজ গ্রামের বর্গাচাষী নজরুল ইসলাম বলেন, “৮০ কিয়ার জমিতে বোরো ধান করেছিলাম। এর মধ্যে মাত্র ১২ কিয়ার কাটতে পেরেছি। বাকি সব পানিতে ডুবে গেছে। এনজিও থেকে নেওয়া ৬ লাখ টাকা ঋণ এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরো পড়ুন...  সীমান্তজুড়ে মাদক উৎপাদনের অভিযোগ, যুবসমাজকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান এমপি নাসের রহমানের

আরেক কৃষক সিরাজ মিয়া জানান, তার ২০ কিয়ার জমির সব ধান পানির নিচে চলে গেছে এবং তা আর তোলার কোনো সুযোগ নেই। অনেক কৃষক একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মনু প্রকল্প এলাকার কাশিমপুর পাম্প হাউসের আটটি পাম্প নিয়মিত চালু থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। তবে খাল-বিল ভরাট এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পানি নামছে না, বরং বিভিন্ন দিক থেকে আবার হাওরে প্রবেশ করছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় পাম্পগুলো সচল রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি কমছে না। বৃষ্টি বন্ধ হলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি জানান।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৮২.৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও নতুন করে জলাবদ্ধতায় হাজার হেক্টরের বেশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় আট হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন...  কমলগঞ্জে সংরক্ষিত নারী সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট ধানও নষ্ট হয়ে যাবে, যা তাদের জীবিকা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন

মোরেলগঞ্জে বৃত্তি অর্জনকারী ৪২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনের জমজমাট আসর শুরু

জুয়ার আসরে মারধরের পর মৃত্যু, বাড়ি ফেরার পর প্রাণ গেল ৬৩ বছরের কোরাইনার

এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৪৬ মণ ইলিশ

শ্রীপুরে সার-কীটনাশকের দুই দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

জাতীয় বিতর্কে রানারআপ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষুদে বিতার্কিকরা

বিশ্বনাথে সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কে গেইট নির্মাণের অভিযোগ

চা শিল্পে নতুন ইতিহাস, এক নিলামেই এনটিসির আয় ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা

বদরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা?

১০

জুড়ীতে অসময়ে তরমুজ চাষে দুই কৃষকের দৃষ্টান্ত

১১

শিবগঞ্জ সীমান্তে ১৫০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ আটক ১

১২

বিশ্বনাথে লামাকাজী আইটি একাডেমির উদ্বোধন

১৩

কমলগঞ্জে সংরক্ষিত নারী সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

১৪

৮ বছরের শিশুর কাঁধে ৬ সদস্যের পরিবারের ভার

১৫

কুলিয়ারচরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সাংগঠনিক তৎপরতা, গঠিত হবে ৭ শাখা

১৬

গোমস্তাপুরে পৃথক অভিযানে ৩১০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১৭

মনু সেচ প্রকল্পের জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকদের স্মারকলিপি

১৮

দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে মাগুরায় ১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি

১৯

পটিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে এক লাখ ইয়াবাসহ মোটরসাইকেল গ্যাংয়ের ৬ সদস্য আটক

২০