মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারে মাত্র এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মেদিনীমহল, নিদনপুর, ধুলিজোড়া ও জামুয়াসহ আশপাশের গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমির বোরো ফসল এখন পানির নিচে। বিশেষ করে বর্গা চাষি ও ক্ষুদ্র কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ধার-দেনা ও ঋণের টাকায় ফলানো পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই বুক সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। শ্রমিক সংকট এবং হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের কৃষক শহর উল্লাহর মতো অনেকেই বিঘাপ্রতি তিন-চার মণ ধান দেওয়ার চুক্তিতে অন্যের জমি আবাদ করেছিলেন। সারা বছরের খোরাকি এবং ঋণের টাকা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় এখন দিশেহারা এই জনপদের মানুষ। ফতেপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের সুজন মিয়া জানান, নিচু এলাকার জমিতে থৈ থৈ করছে পানি। যদি আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পানি নেমে যায়, তবে হয়তো পচে যাওয়ার আগে কিছু ধান উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বুরবুরিয়া বিলসহ বিভিন্ন নালা-খাল খনন না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কাশিমপুর পাম্প হাউসের সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়াকেও পরিস্থিতির অবনতির জন্য দায়ী করছেন তারা।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ দাবি করেছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট না থাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাশিমপুর পাম্পগুলো সচল রয়েছে। মনু প্রকল্প এলাকায় পানির স্তর কিছুটা বেশি হলেও তা কমানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারে এ বছর ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার অর্ধেক ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে প্রায় এক হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ফসল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারি তালিকায় উঠে এসেছে। উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সাতটি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন