কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি পুকাই চন্দ্র বর্মণ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সালুয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পুকাই চন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধে তার মা একটি সিআর মামলা (নং- ২৭১(১)২৬) দায়ের করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে মারামারি, চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮০ ও ৪২৭ ধারায় মামলা করা হয়। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেফতারকৃত পুকাই চন্দ্র বর্মণ উপজেলার দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের দেবেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, গ্রেফতারের পর জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে তিনি নিজ ইচ্ছায় হলফনামার মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে মো. উসমান মিয়া রাখেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ধর্মান্তরের পর পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে তিনি বারবার জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছেন এবং এতে কোনো প্রকার চাপ বা প্ররোচনা ছিল না।
সালিস বৈঠকে পারিবারিক দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে চার হাজার টাকা প্রদান করতে সম্মত হন। পাশাপাশি তিনি তার মায়ের দেখাশোনা করার আগ্রহও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ধর্মান্তরের পর থেকে তিনি পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে ছিলেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তার গ্রেফতার নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখলেও, আবার অনেকে তার পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওয়ারেন্টমূলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর জানা গেছে, তিনি সম্প্রতি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সঙ্গে এই বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তবে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও পারিবারিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন