বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। এদিকে বৃষ্টিপাতে পৌর শহরসহ মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ী। রাস্তা ও ঘরে পানি উঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে বাগেরহাট পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বর্ষণে কখন একটানা আবার কখনও কখনও থেমে থেমে হালকা-মাঝারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে বাগেরহাট উপকূল জুড়ে।
বারইখালীর সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তায় ও বাড়িতে হাটুর নিচে পানি। রান্না ঘরে পানি ওঠায় ৩দিন ধরে রান্নাবান্না অন্যের বাড়ি থেকে করে আনতে হচ্ছে। একই এলাকার মোর্শেদা বেগম বলেন, বৃষ্টিতে ঘরে পানি উঠায় রান্না করতে হচ্ছে জোয়ারের ভাটা হলে। ঘরে রান্নাসহ ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে জেলার জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০ গ্রাম।
এদিকে জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বদনীভাঙ্গা, সানকিভাঙ্গা, পাঠামারা, খাউলিয়া বাজারের ব্রিজসহ হুমকির মুখে এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বদনীভাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮০নং বি পাঠামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহরবুনিয়ার এসবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ওই সকল গ্রাম। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পানগুছি নদী অব্যাহত ভাঙনের ফলে ফসলি জমি, বাড়িঘর গাছপালা বিলীন হয়ে নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
পৌর শহরের কাপুড়িয়া পট্টি কাঁচা বাজার কলেজ রোড, কেজি স্কুল সড়ক, উপজেলা প্রশাসনিক চত্বর পানিতে তলিয়ে গিয়ে শহরের দোকানিদের ক্রয়-বিক্রয় দিনে প্রায় ৪/৫ ঘণ্টা বন্ধ হয়ে পড়েছে।রাতেও ঠিক একই সময় পানিতে তলিয়ে যায় সব এলাকা। জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।
মোরেলগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী মিজান শেখ, কসমেটিকস ব্যবসায়ী হারুন মোল্লা, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী পলাশ শিকদার বলেন, দুপুর ১২টা থেকেই বাজারের রাস্তায় পানির চাপ বেড়ে যায় দোকানে ঢুকে পড়ে পানি। ৪/৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। গ্রাম থেকে আশা ক্রেতারা চলে যায় তড়িঘড়ি করে। এ ভোগান্তি থেকে কবে আমাদের মুক্তি মিলবে তাও জানা নেই।
বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মোরেলগঞ্জ শহর সংলগ্ন রামপাল-মোংলা হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ইতোমধ্যে পানগুছি নদীর ভাঙন হতে বাগেরহাট জেলা সদর সংলগ্ন এলাকা সংরক্ষণ এবং বিষখালী নদী পুনঃখনন শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ সকল কাজ শেষ হলে আশা করছি এ সকল সমস্যার সমাধান হবে।
মন্তব্য করুন