ইতিহাস ডেস্ক
৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নৌযান মালিকদের ধর্মঘটে অচল সুন্দরবন পর্যটন

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় চার শতাধিক জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০টি পর্যটনবাহী জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলে। একই সঙ্গে সেসব বোটের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। এতে বোটগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশও ব্যাহত হয়। এই অভিযানের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নৌযান মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন।

এর জেরে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সোমবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা পর্যটকরা নৌযান না পেয়ে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

খুলনা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সৈকত শেখ বলেন, ‘গাড়ি থেকে নেমে জানতে পারি সুন্দরবনে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ সব নৌযান বন্ধ। তাই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।’

আরো পড়ুন...  কালিয়াকৈরে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

ঢাকা থেকে পরিবারসহ আসা রহিমা খাতুন বলেন, ‘এত দূর থেকে এসে জানতে পারলাম নৌযান চলাচল বন্ধ। এখন আর কিছু করার নেই।’

যশোর থেকে আসা পর্যটক আফসান বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫০ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার কোনো নৌযান নেই। আসাটাই বৃথা হয়ে গেল।’

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদেই নৌযান মালিকরা জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রেখেছেন। প্রায় ৪শ নৌযান এই ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নৌযান মালিকদের জন্য কিছু ব্যয়বহুল ও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। হয়রানি বন্ধ না হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, সোমবার ভোর থেকে সেখানে কোনো পর্যটক বা নৌযান প্রবেশ করেনি। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের কারণেই নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)-এর পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর উপরের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য। পর্যটকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন, জাকির সভাপতি,জাকারিয়া সম্পাদক

মোরেলগঞ্জে ৩৬ হাজার শিশু পেলেন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল

ক্রীড়া কার্ডের সংখ্যা ৫০০ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস ও আমাদের করণীয়

জেলায় ৩ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ কে জিতবে, অপটা সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী

ভান্ডারিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা

বিশ্বনাথের রাজনীতিতে নতুন আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন

নিখোঁজের একদিন পর ধলাই নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল আবু কালামের

১০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্র্যাকের ১৩ হাজারের বেশি গাছের চারা বিতরণ

১১

ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ মণ ভারতীয় বাসমতি চাল জব্দ

১২

যে আমল ছাড়া কবরের তিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়

১৩

কুড়িগ্রামে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

১৪

মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফলদ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

১৫

কিশোরগঞ্জে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ

১৬

কর্মী পদ বাতিল নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি, ব্যাখ্যা দিল ছাত্রশিবির

১৭

ইতালিতে স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত বাবুল, মায়ের বুকফাটা আহাজারি

১৮

১৪টি চরাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার, আইনি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে কমছে বাল্যবিবাহের প্রবণতা

১৯

চ্যাম্পিয়ন মাগুরার অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা

২০