সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ তুলে ধরে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তর দশপাইকা গ্রামের বাসিন্দা আজিম খান। এ সময় বিভিন্ন উপজেলার ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী, তার সৌদি প্রবাসী ভাই আছকির আলী, রাজনা বেগম, আছিয়া বেগম এবং ফাহাদ আলী সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি অন্য একটি ভিসার কপি প্রদান করা হয় এবং মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের কথা বলে পুরো টাকা আদায় করা হয়। পরে সৌদি আরব পাঠানোর নামে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং ব্যক্তিগত মালামাল ও নগদ অর্থ রেখে তাদের বের করে দেওয়া হয়।
আজিম খান আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরও ভুক্তভোগী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে গত ৮ মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান-এর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।
চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ১৫ এপ্রিল, ৩ মে এবং ৯ জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন