“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ২৭ জুন শনিবার বেলা ১১ টায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের আয়োজনে এবং এফসিডিও (FCDO)-এর সহোযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা অফিস সভাকক্ষে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত সভার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিন ফকির বক্তব্যে বলেন, “শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা শুধু কোনো একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়,এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
সভায় সঞ্চালকের বক্তব্যে ফারুক হোসেন সামাদ বলেন,পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের মূল শক্তি হলো সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষের অংশগ্রহণ। সমাজে বিভেদ নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এম. কে. আজিজ,বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার,পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান,থানা মহিলা দলের সভাপতি শাহিন ফেরদৌসী হ্যাপি,উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, ইমাম মনিরুজ্জামান হাওলাদার, পুরোহিত গবিন্দ কুমার চক্রবর্তী, সাংবাদিক শেফালী আক্তার রাখিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা মোরেলগঞ্জ উপজেলায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধে দল-মত নির্বিশেষে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নিয়মিত শান্তি বিষয়ক কার্যক্রম, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সহনশীল,অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পিএফজি-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো.রেজবিউল কবির। তিনি প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম,ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজি সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন