মাগুরার শ্রীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বনরুটির ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্কুল ফিডিংয়ের দেওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম অর্চি। রাতে ছোট বোনের সঙ্গে রুটিটি ভাগ করে খাওয়ার সময় রুটির মাঝখানে একটি আস্ত ধারালো ব্লেড দেখতে পায় তারা।
শুক্র ও শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ৯ আগস্ট রোববার বনরুটিটি সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানান এবং রুটির ভেতরে থাকা ব্লেডটি দেখান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিলকিস আক্তার লিজা বলেন, “বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে দেওয়া বনরুটিটি মেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। রাতে প্যাকেট খুলে দুই বোন রুটিটি মাঝখান থেকে ছিঁড়তে গেলে ভেতরে একটি আস্ত ব্লেড দেখতে পাই। পরে দাদাকে জানিয়ে রোববার স্কুলে এনে প্রধান শিক্ষককে দেখাই। শিশুদের খাবারে এমন মরণঘাতী ব্লেড পাওয়ার পর আমরা খুবই শঙ্কিত। আমরা চাই, শিশুরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার পাক।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, “৯ আগস্ট এক অভিভাবক রুটিটি এনে দেখান। রুটির মাঝ বরাবর একটি আস্ত ব্লেড ছিল। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়। এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।”
হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা শিরিন বলেন, “ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। পরে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলি। তাদের অভিযোগ ও রুটির ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। শিশুদের খাবারে এ ধরনের ব্লেড পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। বিষয়টি আমার জানা নেই।”
খামারপাড়া ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোমিনুর রহমান বলেন, হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বনরুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি; একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাড়িতে রুটির মধ্যে ব্লেড পেয়েছেন বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটায় এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, “এমন ঘটনা আমার জানা নেই। প্রমাণসহ কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিশুদের জন্য বিতরণ করা খাবারের ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন