নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে তিন বখাটের বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা এলাকায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলহাটা গ্রামের বাসিন্দা শাহীনূর আলম খানের মেয়ে এবং মল্লিকপুর সরকারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই কিশোরী ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে একই গ্রামের রায়হান, তামিম ও লিকু নামে তিন যুবক তার পথরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে নিয়ে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। শুধু তাই নয়, সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চরম মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ওই শিক্ষার্থী। পরে বাড়ি ফিরে সে হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাকে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু বখাটের উৎপাত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।
এ বিষয়ে আব্দুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, কিশোরী নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার হয়রানির মতো ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন