বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন রক্ষার একই দাবিতে দুই দিনের ব্যবধানে পৃথকভাবে দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ জুন হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে প্রথম মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুলাইমান জমাদ্দার। এতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শিক্ষক, কৃষক, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর মাত্র দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) একই দাবিতে পুনরায় আরেকটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন বেপারী।
একই দাবিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক দুটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও মতপার্থক্যের কারণে আন্দোলনের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলীয় বিভাজন বা ব্যক্তিগত গ্রুপিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। তাদের মতে, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি এবং এ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ইউনিয়নের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে বিভক্তি না বাড়িয়ে বরং ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত। তা না হলে দীর্ঘদিনের এই দাবি আদায় বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নকে নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন ও দাবির ক্ষেত্রে সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।
মন্তব্য করুন