মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা-এর সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১১ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর বাবা।
লিখিত অভিযোগে কলাবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির জানান, তার মেয়ে নাইদা ইয়াসমিন সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২১ মে গণিত ক্লাস চলাকালে এক সহপাঠী তার খাতা দেখে অঙ্ক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম তাকে দায়ী করেন। পরে কাঠের স্কেল দিয়ে তার হাতে ও বাহুতে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকের আঘাতে ছাত্রীর হাতে থাকা সৌদি আরব থেকে আনা একটি অ্যাপল ওয়াচের গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়া আঘাতের কারণে কয়েকদিন শারীরিক ব্যথা ও মানসিক আতঙ্কে ভুগতে হয় তাকে। পরে চিকিৎসা ও ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন অভিভাবক।
ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। বিদ্যালয় পুনরায় খোলার পরও প্রধান শিক্ষক বা অভিযুক্ত শিক্ষক কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি।
অভিযোগপত্রে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, প্রধান শিক্ষকের অবহেলা, অনিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলার অভাবের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম বলেন, “বিষয়টি এতটা গুরুতর নয়। ক্লাসে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের শাসন করতে হয়। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর আমি দুই সহকর্মীকে নিয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়েছি এবং প্রয়োজনে ভাঙা ঘড়ির ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।”
অন্যদিকে, মুসফিকীন নূর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন