চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ নতুনপাড়া এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। বন্যার পানিতে তার ১৮টি মাছের পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় পুকুরগুলোর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় চাষ করা মাছ ও পোনা ভেসে যায়। এতে সারা বছরের বিনিয়োগ ও আয়ের প্রধান উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন আবদুল হামিদ।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষির ভাই মোহাম্মদ লোকমান জানান, ১৮টি পুকুরে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়া হয়েছিল। বন্যার পানিতে সব পুকুর তলিয়ে গিয়ে মাছ ভেসে চলে গেছে। পুকুরের অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
পুকুরগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুলাল বলেন, “আমরা প্রায় ২১ জন শ্রমিক এসব পুকুরে কাজ করি। মালিক নিজের সঞ্চয়, আত্মীয়স্বজনের সহায়তা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। বন্যায় সব মাছ ভেসে যাওয়ায় তিনি এখন চরম সংকটে রয়েছেন। আমাদের বেতনও পরিশোধ করতে পারেননি। আমরা চাই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে সহযোগিতা করুক।”
এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানবীর আহসান জানান, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুরের পাড় ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “চন্দনাইশ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাছ ও অবকাঠামো মিলিয়ে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”
সাম্প্রতিক বন্যায় চন্দনাইশের শত শত মৎস্যচাষী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না পেলে তাদের অনেকেই নতুন করে মাছ চাষ শুরু করতে হিমশিম খেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন