নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত ৮ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আওতায় পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাব দ্রুত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।
বর্তমানে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিনই নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এতে রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উভয়কেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মো. আল ইমরানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম বলেন, “পূর্বধলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অতীতে তেমন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, পূর্বধলা তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে, রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং পূর্বধলাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মানসুরা আলম বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পূর্বধলার সার্বিক পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছি।”
স্থানীয়দের আশা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে পূর্বধলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ আরও উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
মন্তব্য করুন