চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও রাসায়নিক সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত তিনটি কার্গো বোটসহ ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নকল মোড়ক ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সার ও সিমেন্ট অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিশেষ টহল জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার একটি বিশেষ আভিযানিক দল সন্দেহভাজন তিনটি কার্গো বোটে অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে বোটগুলো থেকে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট এবং বিএডিসির নকল মোড়কে মোড়কজাত ২৫০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার জব্দ করা হয়।
এ সময় পাচার কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি পাচারে ব্যবহৃত তিনটি কার্গো বোটও জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত সিমেন্ট, সার ও কার্গো বোট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান পাচারচক্রের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন