কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য দিবালোকে অটোরিকশা চালকের ছেলে জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর এলাকা। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় জনগণ।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া আঞ্চলিক সড়কের লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর ‘ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে, টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে এবং রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। অথচ অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিহতের স্বজনরা বলেন, “জুয়েল একজন নিরীহ যুবক ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
এর আগে গত ১১ জুলাই জুয়েল মিয়ার জানাজা শেষে শত শত মানুষ মরদেহের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধাইবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে এরপরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমবাহী গাড়িতে করে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বড়চারা বাজারের পশ্চিম পাশে একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতি রোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকলেও জুয়েল ওই বিরোধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ঘটনাটির শিকার হয়েছেন।
নিহত জুয়েল মিয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
এদিকে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন