যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিহরনগর বাওড় জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, মাছ লুট এবং বৈধ ইজারাদারদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাওড়ের বৈধ ইজারাদার রনি বিশ্বাস (৩২)।
গত ১০ জুলাই দায়ের করা অভিযোগে জোকা গ্রামের তাহের হোসেন (৪৫), সিরাজ (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে ১৪৩১ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ থেকে ১৪৩৬ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য হরিহরনগর বাওড় ইজারা নেন রনি বিশ্বাস ও তাঁর অংশীদাররা। এরপর থেকে তারা বৈধভাবে বাওড়টি পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে বাওড়ে জাল ফেলে মাছ আহরণ করে আসছেন। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি বাওড়ে প্রবেশ করে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় বৈধ ইজারাদার রনি বিশ্বাস, তাঁর অংশীদার সোহরাব হোসেন ও কামাল হোসেন এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে ইজারাদার ও শ্রমিকরা সরে গেলে অভিযুক্তরা বাওড় থেকে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিয়ে চলে যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার পর থেকে ইজারাদার ও শ্রমিকরা আতঙ্কে বাওড়ে যেতে পারছেন না। এতে বাওড়ের নিরাপত্তা ও মাছ চাষ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রনি বিশ্বাস এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন