চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ‘হাজী আলম শাহ’ নামে এক ব্যক্তির ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, সংঘর্ষ ও হানাহানির অভিযোগ রয়েছে। এবার ওই সম্পত্তির একটি অংশ হেবা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে অন্য ভাইয়ের মামলা করার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, হাজী আলম শাহের পুত্র হোসেন আহমদের ওয়ারিশ ছালেহ আহমদের ছেলে সাইফুদ্দীন খালেদের নামে তাঁর মা ও বোন হেবা দলিলের মাধ্যমে ৯ শতক জমি হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে ছালেহ আহমদের অন্য ছেলে মোহাম্মদ সেলিম, ইছহাক ও নাজিম পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি বর্তমানে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় আদালত সম্প্রতি ওই জমি বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাইফুদ্দীন খালেদ বলেন, মামলায় ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরযোগ্য নয়—এ বিষয়টি উল্লেখ করে শর্ত অনুযায়ী আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে তাঁর দাবি, এর আগে হোসেন আহমদ ও দুদু মিয়ার ওয়ারিশরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাগের সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর করেছেন।
তিনি জানান, ১৯৩০ সালে হাজী আলম শাহ তাঁর দুই পুত্রকে আওলাদি ওয়াকফের মোতাওয়াল্লি নিয়োগ করে ওয়াকফ সম্পত্তির দলিল হস্তান্তর করেন। পরে ১৯৬৪ সালে হোসেন আহমদ তাঁর ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের নামে প্রাপ্য সম্পত্তি নিয়ে একটি অছিয়তনামা লিখে দেন।
সাইফুদ্দীন খালেদের দাবি, আরএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী হোসেন আহমদের ওয়ারিশরা ২০২২ সালে ৬ শতক জমি শহীদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। এর আগে ২০০৯ সালে আবদুল জলিল সওদাগরের কাছে প্রায় ৪ শতক জমি এওয়াজনামার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে শহীদুল আলম, আমির আহমদ, উত্তম দাশসহ আরও কয়েকজনের কাছে ওই সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ বিক্রি করা হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ। এমনকি আদালতে মামলা চলাকালেও মামলার কয়েকজন বাদী অন্য ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাইফুদ্দীন খালেদের অভিযোগ, ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করে অতীতে একাধিকবার সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর করা হলেও কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু তাঁর মা ও বোন হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁকে কিছু জমি হস্তান্তর করার পর তাঁর ভাইয়েরা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।
তিনি এ বিষয়ে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন