পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশপথে গেট বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে।
গত ২ আগস্ট (রোববার) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত রমা রানী দাস (৪৫) বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ মো. শহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার এবং রোববার রাতে ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমা রানী দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার দুপুরে বাড়ির প্রবেশপথে লোহার গেট স্থাপনের কাজ শুরু করলে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন আকন ও শহিদুল ইসলাম কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এতে বাধা দেন।
রমা রানী দাসের অভিযোগ, এ সময় আনোয়ার হোসেন আকন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করতে গেলে তাঁর বাম হাতের তালু ও আঙুলে গুরুতর জখম হয়।
তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্বামী ননী দাস (৫৫) এবং পরিবারের সদস্য ঝর্ণা রানী দাস (৪৫) হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন।
এ সময় হামলাকারীরা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আনোয়ার হোসেন আকন রমা রানী দাসের এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। শহিদুল ইসলাম ঝর্ণা রানী দাসের ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ধাওয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নাছির উদ্দিন নগদ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আকন। তিনি বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ঘটনার দিন আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।”
এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শামীম হাওলাদার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ শহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন