কুড়িগ্রামে চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডের অধীনে থাকা ২২টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামে এ বছর এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৬৪৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ জন। পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
শতভাগ ফেল করা চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো—কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং একই উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
এর মধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শেষ সময়ে রেজিস্ট্রেশন, বিলম্ব ফি এবং শিক্ষক সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও শিক্ষকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলায় এবার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ১১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয় ২০২২ সালে। এ বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, বিদ্যালয়টি নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়ে অনুমতি পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করানো সম্ভব হয়। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, চারজন শিক্ষার্থীই অন্যান্য বিষয়ে ভালো ফল করলেও শুধু বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় পায়নি। পাশাপাশি শিক্ষকও ছিল না। শেষ দিকে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের চেষ্টায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় সবাই ওই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) দেবপ্রসাদ রায় জানান, বিদ্যালয়টি নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হলেও এখনো মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে বিদ্যালয়টি নবম শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি পায়। শেষ সময়ে বিলম্ব ফি দিয়ে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
তিনি জানান, এ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ জন ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। আগামী বছর ভালো ফলাফল করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনিও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, যে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয় হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সরেজমিনে তদন্তের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন