চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কিশোরী নয়নী খাতুন হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি রইশুদ্দিন আহম্মেদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন রইশুদ্দিন আহম্মেদ। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, এর আগে নয়নী হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন রইশুদ্দিন আহম্মেদ। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সী নয়নী খাতুন দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনবাগ এলাকার আলহাজ রইশুদ্দিনের পরিবারের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে তার মৃত্যু হয়। শুরুতে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহত নয়নীর দাদি মোসা. আকলিমা শিবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রইশুদ্দিনের নাতি নোমান আলীর সঙ্গে নয়নীর পরিচয় ছিল। নোমান নিয়মিত তার নানার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগে অসহায় ও এতিম কিশোরী নয়নীকে নোমান শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, এর ফলে নয়নী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। গর্ভধারণের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সদস্যরা মিলে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৯ জুন সকালে অভিযুক্ত নোমান আলীকে মোহনবাগ এলাকার তার নানার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতের আদেশ ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপরই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।
মন্তব্য করুন