পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের বিচার এবং অর্থের বিনিময়ে ঘটনা আপোষের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে ঝাড়ু ও জুতা হাতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের রবীন্দ্র স্মরণী বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে উপজেলার তাইয়াগছ এলাকায় প্রতিবেশী এক ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও থানায় মামলা না করে একটি মহল ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি আপোষ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেনের বিচার এবং কথিত আপোষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধেও আপোষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।
পরে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা বলেন, “সুলতানা রাজিয়া দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি দূরে আছি, বাসায় আসব। মামলা হবে না, আপোষ করবে কি না—এটা উনি দেখবেন।” এ ঘটনায় তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক তালুকদার বলেন, এত বড় একটি ঘটনা গোপনে আপোষ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে আপোষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া। তিনি জানান, তিনি কোনো আপোষের ঘটনায় জড়িত নন এবং বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোট: প্রতিবেদনে উত্থাপিত ধর্ষণ ও আপোষের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে যাচাইসাপেক্ষ।
মন্তব্য করুন