
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। এ পরিবর্তনের পর অনেক সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠজনদের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান রূপান্তর লক্ষ্য করা গেছে। সাভার-আশুলিয়া এলাকায় এমনই এক আলোচিত নাম মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম শরীফ, যিনি ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু–এর কথিত ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত দেড় বছরে শরীফের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগে তিনি পোশাক কারখানায় চাকরির মাধ্যমে পেশাজীবন শুরু করেছিলেন। তবে বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১১৪ কোটির টাকার বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, ৫ আগস্টের পর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ইপিজেড এলাকায় একাধিক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন শরীফ। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুরো ইপিজেড এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। পাথালিয়া ইউনিয়নের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ দখল, শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও অভিযোগ এসেছে। এছাড়া ধলেশ্বরী, বংশী ও তুরাগ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
নয়ারহাট বাজারের সরকারি জমি লিজ নিয়ে একাধিক দোকান স্থাপন এবং এককালীন ও মাসিক ভাড়ার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পৌরসভার টেন্ডার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে—মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়, বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এমনকি বিদেশ সফরে বিলাসী জীবনযাপনের বিষয়। থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া ও দুবাই সফর এবং ক্যাসিনোতে অংশগ্রহণের কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে শরীফ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন