নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২৮৫ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) দিনভর পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদ রাখা চিনি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হাতিয়া থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় উপজেলার আফাজিয়া বাজার এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিনি মজুদ করে রাখা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদ ও রিয়াজ উদ্দিনের ভাড়াকৃত একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ২০০ বস্তা অবৈধ চিনি জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপরদিকে একই এলাকায় শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ী হেলাল বেপারীর একটি গুদাম ও তার নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গুদাম থেকে ৭ বস্তা এবং তার বাড়ি থেকে আরও ৭৮ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়। জব্দ করা বস্তাগুলোর মধ্যে ৬০ কেজি ও ৪৫ কেজি ওজনের চিনি রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া চিনির অধিকাংশই অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে এনে গোপনে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এসব পণ্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাতিয়ার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই পণ্য কম দামে কিনে এনে স্থানীয় বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন জানান, জব্দ করা চিনিগুলো আপাতত প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ মজুদ ও চোরাচালান রোধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন ও পুলিশের এমন অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে হাতিয়ায় চোরাই পণ্য মজুদ ও অবৈধ ব্যবসা অনেকটাই কমে আসবে।
মন্তব্য করুন