
নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার পুলিশ নোয়াখালী সুপার মার্কেটের একটি স্বর্ণের দোকানে সংঘটিত দুঃসাহসিক স্বর্ণচুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরচক্রের লিডারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে চোরাই স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
পুলিশ জানায়, গত ০১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত “নিলয় জুয়েলার্স”-এর শাটারের তালা কেটে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এ সময় দোকান থেকে প্রায় ১২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় দোকানটির পরিচালক মীর মোশারেফ হোসেন বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪৫৭, ৪৬১ ও ৩৮০ ধারায় রুজু করা হয়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেনের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবরের নেতৃত্বে একটি চৌকস তদন্ত ও অভিযানিক দল গঠন করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভাঙ্গরা পাকা সড়ক এলাকা থেকে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরচক্রের দলনেতা মো. মোর্শেদ (মহসিন) মোশারফ ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আরেক অভিযানে চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিন (২৬)–কে তার বসতঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই যাওয়া মোট ৯ ভরি ৪ আনা ২ রতি ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি মো. মোর্শেদ ও মো. আলাউদ্দিন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পূর্বে ৮টি এবং মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম ও বাকি চোরাই স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন