
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন সারাদেশে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ সদস্য এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্যা ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।” তিনি বলেন, এই বিশাল জনবল ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে সদস্য থাকবে, যার মাধ্যমে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন অতিরিক্ত আনসার সদস্য সার্বিক নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবেন। এসব টিম যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।” তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি। এ সময় আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নবীন ক্যাডার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আনসার সদস্যদের একাধিক টিম শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন, কসরত এবং আপৎকালীন উদ্ধার কার্যক্রমের মহড়া প্রদর্শন করে। এসব কার্যক্রমে বাহিনীর দক্ষতা ও প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন অতিথিরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক আনসার সদস্যের অংশগ্রহণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন