
দিনাজপুরের বিরামপুরে বিয়ের দাবীতে অনশন পালন করছেন এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে বিরামপুর উপজেলার মোকন্দপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ফিরোজ কবিরের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি হাকিমপুর উপজেলার চৌধুরী ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা এবং বিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন। চার বছর আগে ফিরোজ কবির তার বাড়ির পাশে পেশাগত কাজে আসার সময় পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত দেখা ও কথোপকথন চালিয়ে আসছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেন, যদি তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ফিরোজ কবির তার বিয়ে ভেঙে দেবেন এবং সংসার করতে দেবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন।
গত সোমবার ছাত্রী দাবি অনুযায়ী তার বাড়িতে ফিরোজ কবির গেলে, মেয়ের পরিবার বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। তবে কাজি ডাকার সময় সে পালিয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রী ফিরোজের বাড়িতে চলে আসেন, কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে প্রবেশের পর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে টানাহেঁচড়া করে বের করে দেন ছেলের বাবা।
ফিরোজ কবিরের বাবা জানান, তিনি ছেলের চার বছরের সম্পর্কের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, “গতকাল আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলে অনুপস্থিত ছিলেন। আমার ছেলে ফিরে এলে আমরা অবশ্যই বিয়ের ব্যবস্থা করব।”
মোকন্দপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, “ফিরোজ কবিরের সঙ্গে মেয়েটির চার বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব থেকে পালানোর কারণে মেয়েটি অনশন করছে। মেয়ের পরিবারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধান করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, সম্পর্কের বিষয়টি চার বছর ধরে চলার পর, ফিরোজ কবির শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বিয়ের দায় এড়াচ্ছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অনশন ও পরিবারের অনুরোধের পর প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমানে তার অনশন ও বিয়ের দাবী এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, শীঘ্রই আলোচনা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে এবং পরিস্থিতি শান্ত থাকবে।
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের অধিকার, বয়স্কদের দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছে, যেখানে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন