
মার্চের শুরু থেকেই দেশের আবহাওয়ায় শীতের প্রভাব একেবারে কমে গিয়ে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে তীব্র গরমের পাশাপাশি ঘনঘন লোডশেডিং জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। দিন যত বাড়ছে, তাপমাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে—কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদন না বাড়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সারাদিনজুড়ে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষেরা তীব্র গরমে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
জাতীয় পর্যায়েও বিদ্যুতের ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর আগের রাতেও ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলে কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া আদানি পাওয়ারসহ ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার অপারেশন বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গরমের মৌসুম শুরু হওয়ায় এপ্রিল মাসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। মার্চ মাসে যেখানে দৈনিক ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, এপ্রিল মাসে তা বাড়িয়ে ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে।
তবে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী তিন মাস দেশের সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ এবং বিপণিবিতানসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন