
ভৈরব-এ ইউরোপে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভৈরব দুর্জয় মোড়স্থ একটি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, “আল ওয়াসী ভিসা ইন লিমিটেড” ও “এমপিআর গার্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড” নাম ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দার মেহেদী হাসান, গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের জনি মোল্লা, লিখন তালুকদার, নরসিংদীর নাইবুর রহমান এবং বশির আহমেদ নয়ন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১২ জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তোসি আহমেদ জানান, বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেকেই জমি বিক্রি করেছেন, গয়না বন্ধক রেখেছেন কিংবা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকেই গন্তব্য দেশে পাঠানো হয়নি। বরং নানা কৌশলে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন মাসে পাভেল, নিপেল, নুরুন নবী, হাবিবুর রহমান, কামাল ও শ্রাবণসহ ছয়জনকে আলবেনিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। পরে তাদের নির্ধারিত সময়ে ইউরোপে পাঠানো হয়নি। নেপালে অবস্থানকালে তাদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করা হয় এবং তাদের সঙ্গে থাকা প্রায় ৬ হাজার ইউরো ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়াও, সাইদুর রহমানকে স্পেন পাঠানোর নামে ভুয়া টিকিট দেওয়া হয়, শফিকুজ্জামান হিরাজকে ফ্রান্স পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয় এবং দিপু ও নাঈমের কাছ থেকে সার্বিয়া পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়া হলেও তাদের পাঠানো হয়নি।
ভুক্তভোগী আবু সাঈদ বলেন, কোম্পানির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা অফিস গুটিয়ে পালিয়ে গেছে। তাদের খুঁজে পেতে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রতারণার এমন ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা রোধে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন